বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা জারি

ক্রেডিট কার্ডে ঋণসীমা ৪০ লাখে উন্নীত, সর্বোচ্চ সুদ ২৫ শতাংশ

দেশে ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল লেনদেন ও নগদবিহীন অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে আরো সুশৃঙ্খল করতে ক্রেডিট কার্ডসংক্রান্ত নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এতে ঋণসীমা ২৫ থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৪০ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। এক্ষেত্রে সুদহার নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ। মূলত গ্রাহক সুরক্ষা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বশীল ঋণ প্রদানের ওপর জোর দিয়ে গতকাল এ নির্দেশনা জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

নির্দেশনায় বলা হয়, ব্যাংকগুলো ক্রেডিট কার্ডের বিপরীতে জামানতহীন ১০ লাখ টাকা ও জামানতের বিপরীতে ২৫ লাখ ঋণ দিতে পারে। এ সীমা বৃদ্ধি করে জামানতহীন ২০ লাখ টাকা ও জামানতের বিপরীতে ঋণসীমা ৪০ লাখ টাকা করা হলো। এক্ষেত্রে গ্রাহকের মাসিক আয়, ঋণের চাপ এবং আর্থিক ইতিহাস যাচাই করে ক্রেডিট সীমা নির্ধারণ করতে হবে। কোনো গ্রাহকের একাধিক ব্যাংকে কার্ড থাকলে সেসব সীমাও ঝুঁকি মূল্যায়নের সময় বিবেচনায় নিতে হবে। এছাড়া কার্ডধারীরা আগের মতোই তাদের মোট সীমার সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ নগদে উত্তোলন করতে পারবেন। তবে জালিয়াতি কমাতে কার্ডে অতিরিক্ত ক্রেডিট ব্যালান্স অনুমোদিত সীমার ১০ শতাংশের বেশি রাখা যাবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, ভোক্তাদের সুবিধা এবং পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) অবকাঠামোর বিস্তারের কারণে দেশে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের পরিমাণ দ্রুত বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, গ্রাহকের অধিকার রক্ষা এবং একটি স্বচ্ছ নগদবিহীন পেমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে তুলতে নতুন নির্দেশনা প্রণয়ন করা হয়েছে।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, দেশে তফসিলি ব্যাংকগুলো টাকায় ক্রেডিট কার্ড ইস্যু করতে পারবে। তবে বিদেশী মুদ্রায় করার অনুমতি থাকবে কেবল অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলোর জন্য। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন থাকলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমতি ছাড়াই ক্রেডিট কার্ড ইস্যু করা যাবে।

নতুন নির্দেশনায় আরো বলা হয়েছে, ক্রেডিট কার্ডে কার্যকর বার্ষিক সুদহার সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ হবে। এ সুদ শুধু বকেয়া পরিমাণের ওপর ধার্য হবে, পুরো বিলের ওপর নয় এবং তা লেনদেনের তারিখ থেকে আরোপ না করে নির্ধারিত সময় পেরোনোর পরদিন থেকে প্রযোজ্য হবে। একই সঙ্গে সুদ, ফি ও অন্যান্য চার্জ বছরে কত হবে, তা স্পষ্টভাবে গ্রাহককে জানাতে হবে। পাশাপাশি নীতিমালা বা সিদ্ধান্তে কোনো পরিবর্তন হলে তা বাস্তবায়নের অন্তত ৩০ দিন আগে গ্রাহককে অবহিত করতে হবে।

ব্যাংকগুলো অনেক সময় গ্রাহকের সম্মতি ছাড়াই দ্বিতীয় বা পরিপূরক কার্ড ইস্যু করে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সম্মতি ছাড়া কোনো ক্রেডিট কার্ড ইস্যু বা ক্রেডিট সীমা বৃদ্ধি করা যাবে না। একইভাবে অনুমতি ছাড়া বীমা বা অন্য কোনো সেবা যুক্ত করা যাবে না। ব্যাংকগুলোকে প্রতি মাসে গ্রাহকদের বিস্তারিত বিল স্টেটমেন্ট দিতে হবে; যেখানে মোট বকেয়া, ন্যূনতম পরিশোধযোগ্য অর্থ, সুদের হার এবং চার্জের হিসাব স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে। গ্রাহকের অভিযোগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩০ দিনের মধ্যে ব্যাখ্যা বা সমাধান দিতে হবে।

কোনো কার্ড ১২ মাস ব্যবহার না হলে সে কার্ডের লেনদেন স্থগিত রাখার কথাও বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নীতিমালায় বলা হয়েছে, কোনো ক্রেডিট কার্ড ১২ মাস ব্যবহার না হলে সেটিকে ‘ডরম্যান্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। আর ২৪ মাস নিষ্ক্রিয় থাকলে গ্রাহককে জানিয়ে কার্ডটি নিষ্ক্রিয় করে দিতে হবে। এছাড়া কো-ব্র্যান্ডেড কার্ডের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ন্ত্রিত আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ, জুয়া প্লাটফর্ম বা ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসার সঙ্গে অংশীদারত্ব করা যাবে না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে দেশের ক্রেডিট কার্ড খাতে স্বচ্ছতা বাড়ার পাশাপাশি গ্রাহক সুরক্ষা জোরদার ও ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা আরো শক্তিশালী হবে।

আরও